যত সফল মানুষদের গল্প শুনি, তত অবাক হই। তাদের গল্প গুলো আমার কাছে কোন ফাইভ স্টার হোটেলে সাজায় রাখা বুফে ডিনারের মতন মনে হয়। সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। পাঁচশো টাকা পকেটে নিয়ে ঢাকা এসে কে অনেক বড় ব্যাবসায়ী হোল আথবা কোথায় কোন ভ্যান গাড়িওয়ালার মেয়ে বিসিএস ক্যাডার হইছে শুধু তাদের গল্পই বিক্রি হয়। যে রিকশাওয়ালার মেয়ে বিসিএস ক্যাডার হয় না তাকে নিয়ে কোন স্টোরি হয় না। যে বাবা সারা দিন রিকশা কিংবা ভ্যান ঠেলে পাঁচ জনের সংসার চালায় সে কি সফল না? যে নারী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাসিমুখে ঘরের কাজে জীবন পার করে কিংবা যে মা বাচ্চাটাকে স্কুল থেকে বাসায় এনে আবার তাকে নিয়ে কোচিং এ দৌড়ায় তারা কি সফল না? তাদের গল্প কোথাও নাই। ছাপোষা মধ্যবিত্ত যে বাবা পাই পাই করে টাকা জমায় তার মেয়েটার ভালো একটা বিয়ে দেয়ার জন্য তার গল্পটা শুধু তার কাছেই থাকে। যে প্রবাসী শ্রমিক পুরো যৌবন টাই পার করে দেয় মধ্যপ্রাচ্যে, এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন থেকে শুরু গার্ড যাকে তুই ছাড়া সম্বধোন করেনা তার গল্পটাও কোথাও পাওয়া যায় না। এই গল্পে কোন সাসপেন্স নাই, হ্যাপি এন্ডিং নাই কিন্তু অনেক হতাশা আছে। হতাশার গল্প বিকোয় না। বিকোয় শুধু মোটিভেশনাল স্পিচ।

নদী
ইচ্ছে ছিলো নদী হবো
সাগর থেকে সব চেয়ে দূরের নদীটা
সাগরে যেতে হাজার মাইল পাড়ি দেয়
কখনো পাহাড়ের ভিতর দিয়ে বয়ে যায়
ঝিরি ঝিরি শব্দে
কখনো বা তীব্র স্রোত নিয়ে ভাঙে
গ্রামের পর গ্রাম
ঘরহারা মানুষের কান্নার লোনা জল নিয়ে
ছুটে যায় সমুদ্রের পানে
তারপর পৌছায় মোহনায়
এতটা পথ পাড়ি দেয়ার পরেও
সমুদ্র তাকে গ্রহণ করে না , ফিরিয়ে দেয় …
স্বরচিত ধূলোবালি – ইমরুল
১৩/০৫/২০২১

তোমাকে মনে পড়েছিলো
একদিন মধ্যরাতে তোমাকে মনে পড়েছিলো
ভরা গ্রীষ্মের দূপুর পেরানো সে রাত
খুব ঝড় আসি আসি করছিলো
জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে বসে ছিলাম
কয়েকটা বৃষ্টির ফোটা ধরবো বলে
বৃষ্টি আসেনি বৃথা ছিলো আমার অপেক্ষা
ওই তখনই একটু মনে পড়েছিলো তোমায়
তারপর ঠিকই ভুলে গিয়েছিলাম…
তারপর হয়তো কয়েক যুগ পেরিয়ে গিয়েছিলো
কিংবা কয়েক শতাব্দী পর
আবার এক কাক ডাকা ভোরে মনে পড়লো তোমায়
ভোরে ওঠা হয় না অনেক দিন
সেদিন কেন যেন উঠে গিয়েছিলাম
চায়ের মগের বদলে দু আঙ্গুলে একটা সিগারেট গুঁজে
চোখটা বন্ধ করতেই তোমাকে মনে পড়লো
সিগারেটটা শেষ হাওয়ার আগেই ভুলে গিয়েছিলাম
সত্যি ভুলে গিয়েছিলাম …
(অসমাপ্ত)

আমার শহরে
আমার শহরে শুধু হেরে যাবার গল্প শুনি
বেকার ছেলেটার মন খারাপ করে পার্কে বসে থাকা
কিংবা প্রেমে ব্যার্থ কোন মধ্যবিত্ত যুবক
যার ভালোবাসার মানুষটির বিয়ে হয়ে যায়
বিলেত প্রবাসী কোন পাত্রের সাথে
বুকে পাথর চেপে সস্তা সিগারেটে টান
সেই কেরানি টাও আমার শহরে থাকে
মেয়ে বিয়ে দিতে গিয়ে লোনের ভারে পিষ্ট
তেতো কান্না চেপে নিয়ে বাসে চড়ে বসে
কিন্তু তোমার শহরে তো রোজই পার্টি চলে
কখনো কখনো সখ করে মাটিতে নেমে আসো তুমি
স্ট্রিট ফুড খাবার বাহানায়
অথবা বই মেলায় একটা কবিতার বই হাতে
তোমার বন্ধু ক্রমাগত তোমার ছবি তুলতে থাকে
সস্তা স্ট্রিট ফুড খাওয়া কিংবা কবিতার বই পড়ার চেয়ে
ছবি তোলাতেই তোমার আগ্রহ বেশি Read More

বসন্ত
সব শীতের শেষেই কি বসন্ত আসে?
কিছু গাছ হয়েতো ভরা বসন্তেও
পাতা আর ফুল ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকবে
বসন্তের সব দিনেই কি কোকিল ডাকে?
ধূলোর শহরে নাকে রুমাল চেপে
অফিস করবে কোন ছাপোষা নিম্নমধ্যবিত্ত
বসন্ত তার অভিধানে নেই
তার অভিধান জুড়ে কেবল আপোষ আর আপোষ …
সব কয়েদিই কি মুক্তির আশায় দিন গোনে?
যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দণ্ডিত কোন আসামি
মুক্তির দিনে জেলগেটের বাইরে
যার জন্য কেউ দাঁড়িয়ে থাকবেনা
মুক্তির আনন্দ তার জন্য না
একা থেকে আরও বেশি একা হয়ে
জেল থেকে কোথায় যাবে সে ? Read More
জল ফড়িং 2.0 Lyrics লিরিক্স – Jawl Phoring 2.0 (জল ফড়িং 2.0) | Prem Tame | Anupam Roy
তুই চিরদিন
তোর দরজা খুলে থাকিস
অবাধ আনাগোনার হিসেব কেন রাখিস?
সাক্ষাৎ আলাদিন
তোর প্রদীপ ভরা জিনে
কেন খুঁজতে যাস আমায়
সাজানো মাগাজিনে?
কোন বালিশে ঘুম
কোন দেওয়ালে মশারি
কোন ফেনায় কম সাবান
কোন ছুড়িতে তরকারি
যাচ্ছে চলে যাক
তবু ময়লা পেলো কলার
আলতো রাখছে হাত
হয়তো অন্য কথা বলার !!! Read More

হ্যামলেট
হ্যামলেট কতবার মরেছিলো ?
বিশ্বব্যাপী থিয়েটার গুলো কত বার মেরেছে হ্যামলেটকে ?
মঞ্চে বার বার মরেছে হ্যামলেট
আবার উঠে দাঁড়িয়েছে নতুন কোন শোতে
দেখেছে পিতার হত্যাকারী চাচার সাথে সাথে মায়ের প্রণয়
বার বার দেখেছে মৃত বাবার প্রেতাত্মাকে
হারিয়েছে ওফেলিয়াকে
শুধু হোরেশিওরা বেচে থাকে
হ্যামলেট, রোমিও আর ইডিপাসেরা কি তবে জাতিশ্বর
বার বার মঞ্চে ফিরে আসে
মুখের আদল টা বদলে যায়
ভাষাটাও বদলে যায়
চরিত্রটা একই থাকে
পরিণতি টাও একই।

স্বপ্ন
মরে যাওয়া শেষ স্বপ্নটার লাশ পড়েছিলো
কোন এক রেলস্টেশনের অন্ধকার কোনে
স্টেশনের আলো ওখানে কখনো পৌঁছায় না
অদ্ভুত লাশটার চোখে কোন পাতা নেই
ঠিক যেন মরা মাছের চোখ
মাঝরাতের নিঝুম স্টেশন
কেউ নেই সেই মৃত স্বপ্নের চোখে একবার চোখ রাখবে
তাতে অবশ্য কিছু আসে যায় না স্বপ্নটার
সেতো মৃত, যখন জীবিত ছিল তখনই কেউ দেখেনি তাকে
আচ্ছা, স্বপ্নটা যার ছিল , সে এখন কই
কি নিয়ে বেচে আছে সে এখন
শেষ স্বপ্নটাও যে মরে গেলো তার
দাফনের পয়সাটাও হয়তো ছিলোনা তার কাছে Read More

বিশ্ব পাহাড় দিবস
পাহাড়ের সাথে সব চেয়ে ঘনিষ্ট সম্পর্ক সম্ভবত আকাশের হয়। আকাশকে সব চেয়ে কাছে থেকে দেখে পাহাড়। একটু হিংসেই হয়। আকাশের কান্না বৃষ্টি হলে পাহাড়ের কান্না কি ঝর্না? জন ডেনভারের কাছে থেকে রকি মাউন্টেনের গল্প কিংবা অঞ্জন দত্তের দার্জিলিং এর গল্প শুনে পাহাড় দেখার অনেক আগে যে পাহড়ের প্রেমে পড়ে যাওয়া আমার পাহাড় নিয়ে কম ফ্যান্টাসি ছিলো না। মরুর বুকে রুক্ষ কোন পাহাড় অথবা বরফে আচ্ছাদিত এভারেস্ট, আবার চা-বাগান দিয়ে ঢাকা ছোট ছোট অসংখ্য টিলা। কল্পনায় ভাবি আর মাথায় বেজে ওঠে “কবে যাবো পাহাড়ে, আহারে “। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কোন কবিতায় পড়েছিলাম পাহাড়ের চেয়ে নাকি নদির দাম বেশি। তবু কবি সুনীল পাহাড়টাই কিনতে চেয়েছিলেন। উনি জিততে না, ঠকতে চান। পাহাড় থেকে আকাশগঙ্গা দেখতে দেখে পুরো জীবনটাই পার করে দেয়া যায়। এক দিন ঠিকই পাহারে ঘুরতে ঘুরতে চিন্তা করে বের করবো মেঘ আর পাহাড়ের সম্পর্কটা অবৈধ কিনা !উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত বার বার চলে যাবো পাহাড়ে। Read More

চিলেকোঠার ড্রিম
ড্রিম গুলো কে কেন বিগ হতে হয় সব সময়? ছোট ছোট স্বপ্ন গুলো কেন এমন মূল্যহীন ? ছাদের চিলেকোঠায় তোমায় নিয়ে সংসার পাততে কোন আপত্তি ছিল না আমার। গরমে না হয় একটু কষ্ট হতই। কিন্তু বৃষ্টি হলেই তো ভিজতে পারতাম। অভ্যেস নেই তোমার জানি আমি। বেশি ভিজতে দিতাম না। আমি হয়তো আরেকটু বেশি ভিজতাম। তোমাকে আমি আমার শহর টা চিনাতাম। বিশ্বাস করো প্রিমিও গাড়িতে করে শহর চেনা যায় না। হাতের মুঠোয় তোমার আঙ্গুল টা ধরে এ-গলি সে-গলি করে চষে ফেলতাম শহরটাকে। ছেঁড়া জিন্স আর ফ্লাট চপ্পলের মাঝে কমফর্ট জোন খুঁজে পাওয়া আমার যে কখনও কোট-স্যুটের জেলে যাওয়া হবে না এটা বুঝে গিয়েছিলে তুমি। হলিডে ট্রিপে মালদ্বীপ কিংবা সিঙ্গাপুরে আমার সাথে থাকলে যে যাওয়া হবে না। বুঝে গিয়েছিলাম আমার আর চিলেকোঠায় সংসার পাতা হবেনা তোমার সাথে। কখন যে একাকীত্ব ও আমার পাসে এসে দাঁড়িয়েছিলো টেরই পাইনি। নতুন করে আর শুরু করার ইচ্ছা হয়নি। স্বপ্ন গুলো মরে যায়নি আজো। হয়তো বুড়িয়ে গেছে। যখন কেউ বলে আবার নতুন করে সব শুরু করতে খুব অবাক লাগে। খুব।