খুনি কে নয়, কেন: কেইগো হিগাশিনোর রহস্যজগৎ

খুনি কে নয়, কেন: কেইগো হিগাশিনোর রহস্যজগৎ
[FILE]Japanese author Keigo Higashino delivers a speech upon receiving the Kikuchi Kan Prize in Tokyo on December 1, 2023. A report revealed that the leading figure in Japanese mystery novels passed away from colorectal cancer on July 23, at the age of 68. ( The Yomiuri Shimbun via AP Images )

কোথাও কেউ এক জন দাবি করেছিলো দৃশ্যম সিনেমার আইডিয়া জিতু জোসেফ দ্য ডিভোশন অফ সাস্পেক্ট এক্স বই থেকে পেয়েছেন। বইটা কিনে ফেলেছিলাম ঘটনা সত্যি কিনা দেখার জন্য । লেখকের নাম টা উচ্চারণ করতে প্যারা খেয়ে নাম টা ইগনোর করে বইটা এক নিশ্বাসে পড়ে ফেললাম। মনে হলো হলেও হতে পারে জিতু জোসেফ একটু হলে আইডিয়া মেরে দিয়েছেন। এর পর গোগ্রাসে গেলা শুরু করলাম। ম্যালিস ছিল কেইগো হিগাশিনোর আমার পড়া দ্বিতীয় বই। গল্পের শুরুতেই ক্রিমিনাল পাওয়ার পরও স্টোরি অনেক দূর চলে যায় মোটিভের খোজে। একে একে Naoko, Malice, Journey Under the Midnight Sun, সিক্রেট অভ দ্য লেক, দ্য রেড ফিঙ্গার,Newcomer, A Death in Tokyo, Salvation of a Saint, The Final Curtain, মায়া প্রসূন, The Miracles of the Namiya General Store, Silent Parade পরে ফেললাম। সত্যি বলতে প্রতিটা কাহিনী কেমন যেন একই। কষ্ট, কান্না, একাকীত্ব, ফেলে আসা বিস্মৃত ঘটনা, হতাশারা কখন যে রহস্যের সাথে মিশে একাকার হয়ে যায় সেটা টেরিই পাওয়া যায় না। ডিটেকটিভ উপন্যাসের খুবিই জনপ্রিয় টেমপ্লেট whodunit কিন্তু কেইগো হিগাশিনো বেশির ভাগ উপন্যাসে Whydunit ফরম্যাটটা বেশি চলে এসেছে। ডিটেকটিভ গ্যালিলিও কিংবা ডিটেকটিভ কাগা যখনিই কোন রহস্যের সমাধান করতে সাস্পেক্টের অতীত ঘাটা শুর করতেন তখনই এমন সব উপাখ্যান উঠে আসতো মনে হতো বইটা পড়া শুরু না করলেই বোধহয় ভালো হত।
কিছু রহস্যলেখক গল্পের শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত খুনির পরিচয় গোপন রাখেন (whodunit) কিন্তু কেইগো হিগাশিনো প্রায়ই আরও কঠিন কিছু করেছেন তার বই গুলোতে। তিনি অনেক সময় শুরুতেই অপরাধটি প্রকাশ করে দিতেন, সন্দেহভাজনকেও পাঠকের সামনে এনে রাখতেন—তারপর রহস্য গড়ে তুলতেন আরও গভীর একটি প্রশ্নকে ঘিরে:

অপরাধটি কে করেছে, তা নয়—বরং কেন কেউ সেটি গোপন রাখতে নিজের সবকিছু বিসর্জন দিতে প্রস্তুত?

আজ কেইগো হিগাশিনো মারা গিয়েছেন ৬৪ বছর বয়েসে।

 

সব অপরাধ ঘৃণা থেকে জন্মায় না; কিছু অপরাধ জন্মায় ভালোবাসাকে বাঁচাতে।

নিখুঁত অপরাধ বলে কিছু নেই—কোথাও না কোথাও অপরাধবোধ বেঁচে থাকে।

মানুষ সত্যকে যতটা ভয় পায়, তার চেয়েও বেশি ভয় পায় সত্যের পরিণতিকে।

কখনো কখনো নির্দোষ মানুষই সবচেয়ে ভয়ংকর মিথ্যাটি বহন করে।

ভালোবাসার সবচেয়ে অন্ধকার রূপ হলো—কারও জন্য নিজের জীবনটাকেই অপরাধে পরিণত করা।

খুনি কে, তা জানা সহজ; মানুষটি কেন খুনি হলো, সেটিই আসল রহস্য।

কিছু মানুষ আলোতে বাঁচে না—তারা শুধু অন্য কারও আলো রক্ষা করে যায়।

অপরাধ লুকানো যায়, কিন্তু তার ছায়া থেকে পালানো যায় না।