স্কুল লাইফটা একটা পেইন ছিল আমার জন্য। বাবা মার কড়া শাসন, বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারতে না দেয়া, সব সময় ঘরে বন্দী থাকা আরও কতো কি। একতাই অস্থিরতা কবে বড় হবো, কবে ? কিন্তু রাতের বেলা দুই চোখ ভর্তি ঘুম ছিল। অতি সামান্য কিছু পাওয়া তেই এক আকাশ সুখ ছিল। শুধু রেজাল্ট এর দিন এর টেনশন। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে গ্রামে ঘুরতে যাওয়া , তিন গোয়েন্দা কিংবা চাচা চৌধুরী এর কমিকস কিনে দিতো বাবা, সে এক অদ্ভুত আনন্দ। সাথে শুধু চিন্তা কবে যে বড় হবো। নিজের টাকায় তিন গোয়েন্দার সব গুলা বই কিনব অথবা সারা দিন চক্লেটস খাবো। হটাত করেই আবিস্কার করলাম বড় হয়ে গেছি। কোন বাধা নেই। আমি মুক্ত। কিন্তু মনে শান্তি নেই। বুক ভর্তি কান্না। ওষুধ ছাড়া রাতে ঘুম আসে না। চলতে ইচ্ছা করে না। দুই পায়ে ১০ কেজি করে ইট বেধে দিসে যেন কেউ। মনটা অস্বাভাবিক ক্লান্ত। কোন কাজ করতে ইচ্ছা করেনা। সিগারেট এর পর সিগারেট, কখনও গাজায় টান। বাবা মা এর সামনে পরতে ইচ্ছা করেনা। তাদের বুড়িয়ে যাওয়া মুখ গুলো দেখলে প্রচণ্ড ভয় হয়। বয়স ত্রিশ হতে চলল। কিছুই করতে পারিনি এখনো। প্রেমে ব্যর্থ , ক্যারিয়ার বানাইতে ব্যর্থ , বাপ মা কে খুশি করতে ব্যর্থ আরও কতো ব্যর্থতা। মরে যাওয়ার চেয়ে বেশি ভয় লাগে এখন বেচে থাকতে। আবার সেই স্কুলে ফিরে যেতে ইচ্ছা করে, বাস্তবতার চাবুকের বাড়ির চেয়ে স্যার দের বেতের বাড়ি অনেক ভালো। Don’t grow up. trust me its a trap.
